সমলিঙ্গের কাউকে ভালো লাগছে , আপনি কি সমপ্রেমী/সমকামী?

amitumi_somokami

সমকাম বা সমকামী শব্দটাতে আজকাল অনেকেরই আপত্তি। সমকামের চাইতে বরং সমপ্রেমটাই হয়তো ভালো শোনায়। কী এই সমপ্রেম? নারী ও পুরুষ পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমরা আজন্ম সেটাই দেখে এসেছি। আর সমপ্রেম হচ্ছে যখন একজন নারী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি আকর্ষণ বোধ না করে, আকর্ষণ কিংবা ভালোবাসা বোধ করেন একই লিঙ্গের অন্য কারো প্রতি।

অনেকেরই একটা ভুল ধারণা আছে এই সমপ্রেম সম্পর্কে, আর সেটা হলো-সমকামিতা বা সমপ্রেম বিষয়টি নতুন, কিংবা বিষয়টি আধুনিক সমাজের সৃষ্টি। কিন্তু সত্য এটাই যে সমপ্রেম মোটেও নতুন কোন বিষয় নয়, বরং অত্যন্ত প্রাচীন। সম লিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণবোধের বিষয়টা শত শত বছর যাবতই মানব সমাজে আছে। পার্থক্য এটাই যে আগে বিষয়টিকে খুব গোপনে লুকায়িত রাখা হত, এখন সেটা প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

বিষয় যাই হোক, বর্তমানে সমপ্রেমকে কোন পরিস্থিতিতেই এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। কেউ পছন্দ করুক বা না করুক, বিষয়টি বিশ্বজুড়ে অসংখ্য সমাজেই স্থান পেয়ে গেছে। অনেক দেশেই আইন করে সমপ্রেমীদের বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সমপ্রেমের পক্ষের চাইতে বিপক্ষদলের মানুষের সংখ্যাই বেশি ভারী, তাই স্বভাবতই সমপ্রেম নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার শেষ নেই। তবে অনেকেই এই সত্যটি জানেন না যে, স্বাভাবিক নারী-পুরুষ সম্পর্ক যতটা জটিল হয়ে থাকে, একটি সমকামী প্রেম হয়ে থাকে তার চাইতে অনেক বেশি জটিল ও কঠিন। আমাদের সমাজে এখনো সমপ্রেমীদের জন্য কোন স্থান নেই, ফলে নানান রকম সমস্যা দেখা দেয় সমপ্রেমী মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে। একইসাথে নিজের সমকামী সম্পর্কটি নিয়েও সমস্যায় ভুগে থাকেন তিনি।

আপনি কি সমপ্রেমী? কিংবা নিজের লিঙ্গের কাউকে ভালো লাগে আপনার? তাহলে সম্পর্কে জড়াবার আগে অবশ্যই ভেবে দেখুন কিছু বিষয়-

ক্ষণিকের ঝোঁক, মোহ নাকি আসলেই ভালোবাসা?
যে কোন প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই যেটা ভেবে দেখা উচিত সবার আগে, সেগুলো হলো এই ৩টি জিনিষ। প্রেম যার সাথেই হোক না কেন, বিষয়টি কি আসলেই ভালোবাসা নাকি ক্ষণিকের মোহ-সেটা নিশ্চিত হওয়া অনেক বেশি জরুরী। আর সমপ্রেমী সম্পর্কের ক্ষেত্রে তো আরও অনেক বেশি। কেননা ক্ষণিকের মোহে একটি সমপ্রেমে জড়ালে ভবিষ্যতে আপনাকে এর মূল্য দিতে হতে পারে অনেক অনেক গুণ বেশি। তাই সম্পর্কে জড়ানোর আগে বার বার নিজেকে প্রশ্ন করুন- আসলেই ভালোবাসা তো? বিপরীত মানুষটিও আপনাকে ভালোবাসে তো?

কারো বা কিছু দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন না তো?
অনেক সময়েই দেখা যায় সমপ্রেমের সম্পর্কটি একটা ঘটনা বা কোন মানুষ দ্বারা প্রভাবিত হয়। যেমন ধরুন আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড, বফুকাল যাবত আপনাদের গভীর সম্পর্ক। অনেকেই এই বন্ধুত্বকে ভালোবাসার সাথে গুলিয়ে ফেলেন। বন্ধুকে হারাতে চান না বিধায় তাঁকেই প্রেম বানিয়ে নেন। আবার অনেক সময় দেখা যায় একটা বিশেষ ফ্রেন্ড সার্কেল বা অন্য কিছু দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সমপ্রেমের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। তবে আগ্রহটা হয় ক্ষণস্থায়ী, এক পর্যায়ে হারিয়ে যায়। ততদিনে ভুল যা হবার হয়ে যায়! তাই সমপ্রেমে জড়াবার আগে অবশ্যই ভেবে দেখুন যে ব্যাপারটি শতভাগ আপনার মৌলিক ইচ্ছা? নাকি কারো বা কিছু দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন?

পরিবারের বিরুদ্ধে যেতে পারবেন তো আপনি ও সে?
স্বভাবতই একটি সমপ্রেমী সম্পর্ককে কখনোই আমাদের দেশের কোন পরিবারে মেনে নেয়া হবে না। সেক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে ভাবতে হবে নিজের মা বাবা ভাই বোনের কথা। তাঁরা কীভাবে নেবেন? খুব কষ্ট পাবেন হয়তো… আপনি কি সেই কষ্টটা তাঁদেরকে দিতে পারবেন? আপনি না হয় পারলেন পরিবারকে কষ্ট দিতে, কিন্তু তাঁর কে এহবে? আপনার ভালোবাসার মানুষটি কি পারবেন নিজের পরিবারকে কষ্ট দিতে বা তাঁদের সাথে লড়াই করতে? মাঝ পথে আপনাকে ফেলে মত বদলে চলে যাবেন না তো তিনি? তাই চিন্তা ভাবনা করে খুব সাবধানে সিধান্ত নিন।

ধর্মীয় দিকটি ভাবুন
হয়তো এই কথাটি পড়ে অনেকেরই রাগ হচ্ছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি, ভাবতে হবে ধর্মীয় ব্যাপারটিও। আপনি যদি নাস্তিক হয়ে থাকেন তবে ভিন্ন কথা। তবে আস্তিক হয়ে থাকলে এটাও ভাবতে হবে যে আমাদের জানা কোন ধর্মেই সমপ্রেম স্বীকৃত নয়, ধর্মের চোখে এটি পাপ। কেবল আপনি নিজে ভাবলে হবে না, আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী বিষয়টাকে কীভাবে ভাবেন, সেটাও জানতে হবে। ধর্মীয় বিষয়টিকে চাইলেও অস্বীকার করার উপায় নেই আপনার।

সমাজের মোকাবেলা করতে পারবেন?
একটি সমপ্রেমের সম্পর্ক কোন স্বাভাবিক সম্পর্ক নয় যে কিছুদিন হাউকাউ হলেও এক পর্যায়ে সবাই মেনে নেবে। সত্যি বলতে কি, কেউ নেবে না। আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আপনজনেরা গোপনে মেনে নিলেও প্রকাশ্যে কেউ মেনে নেবে না এই সম্পর্ক। বরং কোন কারণে যদি বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে আপনি ও আপনার পরিবার হবেন চরম লাঞ্ছনার শিকার, পারবেন কি সহ্য করতে? সেই মানুষটি পারবে কি?

ভবিষ্যত কী?
হ্যাঁ, ভালোবাসায় মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। কিছুই দেখতে পায় না। কিন্তু একটি সম্পর্কে জড়ানোর আগে কি ভেবে দেখা উচিত না এর ভবিষ্যৎ? আপনারা নাহয় পরিবার ও সমাজকে সামলে নিলেন কিংবা পাত্তা দিলেন না, কিন্তু সেই সাথে নিজেদের ভবিষ্যতটাও ভেবে দেখুন। কী করবেন, কীভাবে করবেন, সন্তান, একত্রে যৌথ জীবন ইত্যাদি অনেক কিছুই ভাবতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না যে আমাদের সমাজে সমকামী বিয়ে আইনসিদ্ধ নয়।

সুত্র : প্রিয় লাইফ

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail