বৈশাখী সাজের প্রস্তুতি

amitumi_boishakhi saaj

মাথার ওপর গনগনে রোদ, কখনো রূপ পাল্টে আকাশ কালো করে নামছে ঝুম বৃষ্টি। বৈশাখ ডাকছে, আবহাওয়ার মতিগতি বোঝা দায়। এরই মধ্যে চলছে উৎসবের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি। পরিকল্পনার একটি বড় অংশজুড়ে থাকছে বৈশাখের সাজগোজ। কেমন হবে এবার পয়লা বৈশাখের সাজগোজ জানাচ্ছেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন।

সকালে স্নিগ্ধ সাজে
দিনের বেলায় বেশ হবে হালকা। গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা গোলাপি বা বাদামি ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন। আফরোজা পারভীনের মতে, দিনে বাইরে বের হলে খুব চড়া মেকআপ না নেওয়াই ভালো। মেকআপ অবশ্যই ম্যাট হতে হবে। চোখে রংচঙে শেড না দিয়ে বেছে নিতে পারেন নিউট্রাল রং। তাহলে কি পয়লা বৈশাখে সাজে লালের ছোঁয়া থাকবে না? ঠোঁট রাঙাতে পারেন লাল রঙে। শাড়ির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সাজ দিতে চাইলে কপালে লাল একটি টিপ না থাকলে সাজটা যেন ঠিক জমে না। বিশেষ এই দিনটিতে মেয়েরা দল বেঁধে ঘুরতে বের হয়, সাজপোশাকে তাই উৎসবের আমেজ ফুটে তো উঠবেই, সঙ্গে আরামের কথাও ভাবতে হবে। কুর্তা, ফতুয়া, স্কার্ট ও ধুতি-পায়জামার সঙ্গে চুল সামনে একটু পাফ করে নিয়ে পনিটেল বা স্টাইলিশ কোনো বেণি করে নিতে পারেন। বৈচিত্র্য আনা যেতে পারে গয়নাতেও। রঙিন পুঁতি বা কাপড়ের মালা কেউ চাইলে মাথায়ও ব্যবহার করতে পারেন। সাদামাটা শাড়ির সঙ্গে রঙিন গয়না পরে সামঞ্জস্য আনা যেতে পারে। শাড়িটি যদি হয় রংচঙে, তাহলে মেকআপ ও গয়নার রং হালকা হলেই ভালো দেখাবে। আফরোজা বলেন, ‘সারা দিন ঘুরে বেড়ালে চুল বেঁধে রাখাই ভালো। ফুল লাগাতে চাইলে এমন ফুল বেছে নেবেন, যা অনেকটা সময় তাজা থাকে। সুন্দর একটি খোঁপায় নেতিয়ে পড়া ফুল দেখতে মোটেই ভালো লাগবে না।’
সাজে ঐতিহ্য ও হাল ফ্যাশনের ধারায় সমন্বয় থাকতে পারে। শাড়ি বা কামিজে দেশি নকশা থাকলেও চুলটা ছিমছাম ও ট্রেন্ডি ধাঁচে বেঁধে নিতে পারেন। অনুষঙ্গ ঐতিহ্যবাহী বা ফাংকি—দুই রকমই চলবে।

দেশি ঢঙে
এদিন তো সব বয়সীর পোশাকেই উজ্জ্বল রঙের ছোঁয়া থাকবে। পার্থক্যটা থাকে মূলত মেকআপ ও অনুষঙ্গে। তরুণীরা নানা ঢঙে শাড়ি পরতে পারেন। মাঝবয়সী কেউ কুঁচি দিয়ে শাড়ি পরতে পারেন, সঙ্গে একটি হাতখোঁপা আর কপালে গোল টিপে ছিমছাম সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। তবে কেউ চাইলে এক প্যাঁচেও শাড়ি পরতে পারেন এই দিনে। এর সঙ্গে টিকলি বা নথও লাগাতে পারেন। পুরোপুরি দেশি ঢঙে সাজতে পারেন।

বৈশাখে অতিথি আপ্যায়নে
বেড়ানোর সময় এক রকম সাজ। কিন্তু ঘরে অতিথি আপ্যায়নের সময় নিশ্চয় সাজটা তেমন হবে না। ঘরের ভেতর-বাইরের মতো রোদের তাপ সহ্য করতে হয় না। তাই ঘরে চুলের নানা সাজ এবং চড়া মেকআপ নেওয়ার স্বাধীনতা আছে ঠিকই। কিন্তু খোলা চুলে কি শান্তিতে কাজ করা যায়! হাতে এক গাছি চুড়ি থাকলেও মুশকিল। তাই বৈচিত্র্য আনতে পারেন বেশভূষায়। এ সময় স্কার্ট পরতে পারেন, সঙ্গে চুলটা না হয় বেঁধে নিলেন এলোমেলো ঢঙে, কানে পরতে পারেন লম্বা কোনো দুল। শাড়ি এক প্যাঁচে বা আঁচল কুঁচি করে পিনআপ করে নিতে পারেন।

রাতের নিমন্ত্রণে
রাতের মেকআপে বেস ব্যবহার দিনের চেয়ে ভারী হতে পারে। ঠোঁটে পোশাকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লাল, ওয়াইন রং বা বেরি রং বেছে নেওয়া যেতে পারে। এ সময় ব্লাশন ও চোখের শেড গাঢ় হলেও সমস্যা নেই। তবে চোখ অথবা ঠোঁট—যেকোনো একটিকে প্রাধান্য দিতে হবে। চোখ যদি হয় স্মোকি, তাহলে ঠোঁট মিষ্টি ও হালকা রঙে রাঙিয়ে নিন। চোখে যদি ন্যাচারাল শেড ব্যবহার করেন, তবে ঠোঁটে ফুটে উঠুক চড়া কোনো রং। অনেক তরুণী দিনে শাড়ি পরে বের হলেও রাতের দাওয়াতে আরাম খুঁজে নিচ্ছেন ছিমছাম পোশাক। অনেকে পরছেন গাউন বা জিনস-টপ। গাউন বা পশ্চিমা ধাঁচের পোশাকের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সাজ না দেওয়ার পরামর্শ দেন আফরোজা পারভীন। চোখে টানা কাজল, কপালে বড় টিপ ও হাতভর্তি চুড়ি তোলা থাক দেশীয় পোশাকের জন্য। দাওয়াতে শাড়ির আঁচল ছেড়ে রাখতে পারেন। দিনে যাঁরা বের হননি বা হলেও ছিলেন খুব ছিমছাম সাজে, তাঁরা রাতের নিমন্ত্রণে চুলটা সুন্দর করে সেট করে ছেড়ে রাখতে পারেন। অথবা চুলটা উঁচু করে বেঁধে ব্যবহার করতে পারেন কোনো হেয়ার অ্যাকসেসরিজ। তরুণীরা পয়লা বৈশাখের সাজে নথ, টিকলি ও হাতে আলতার ব্যবহারের মাধ্যমে সাজে জমকালো ভাব আনতে পারেন।

সূত্র: প্রথমআলো/নকশা

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail