ঈদের পোশাকে নতুন হাওয়া

amitumi_eid fashion trend

পাঞ্জাবি বা কামিজে যেমন কটির বাহার। তেমনি শাড়িতে টারসেল। বাজার ঘুরে এবারের ঈদ পোশাকের ট্রেন্ড নিয়েই থাকছে আজকের লেখা।

এবারের ট্রেন্ড

শাড়ি

* এক শাড়িতে অনেক ফেব্রিকস।

হডিজাইনের অনেকগুলো মাধ্যম একসঙ্গে ব্যবহার

* জমকালো পাথর বসানো পার

* টারসেলের ব্যাপক ব্যবহার

সালোয়ার-কামিজ

* কামিজে নানা আকৃতির কটির ব্যবহার

* কামিজের ঝুল দীর্ঘ তবে স্ট্রেইট ও ফ্রক কাট দুটোই চলছে।

* পালাজ্জোর পাশাপাশি চুড়িদার সালোয়ারও চলছে

পাঞ্জাবি

* দেশী কাপড়ের পাঞ্জাবি

* হাতায়ও ভারি কাজ

* সব পাঞ্জাবির সঙ্গেই মোদি কটি

শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা বাচ্চাদের পোশাক-সব কিছুতেই চাই একটু নতুনত্ব। গেল ঈদ থেকে ব্যতিক্রম হলেই তৈরি হয় ঈদের পোশাক ট্রেন্ড।

amitumi_eid fashion trend1

জমকালো নকশা আঁচলে টারসেল

কয়েকটি ফেব্রিকস মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এবারের ঈদের শাড়ি। ডিজাইনও এক মাধ্যমে আটকে থাকেনি। চুমকি, কারচুপির সঙ্গে মেশিন এমব্রয়ডারি যোগ হয়েছে। আর ও বিশেষত্ব হলো সব ধরনের শাড়ির আঁচলে টারসেলের ব্যবহার। শাড়ির সুতি শাড়ি তো থাকছেই সঙ্গে রয়েছে জর্জেট, মসলিন, হাফসিল্ক, অ্যান্ডি আর পিওর সিল্ক। জামদানি আর কাতানও সেজেছে নতুন রূপে। শাড়ির উপকরণ, রং, ডিজাইন ও নকশায় যোগ হয়েছে বৈচিত্র্য। নতুনত্ব আনতে কয়েকটি ফেব্রিকস একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন একই শাড়িতে জর্জেট, সিল্ক আর অ্যান্ডির ব্যবহার হয়েছে। শাড়ির আঁচল আর কুঁচিতে আলাদা ফেব্রিকস আর নকশা চোখে পড়ে। জামদানি শাড়ির বিভিন্ন মোটিফ উঠে এসেছে সিল্ক বা কাতানের পাড় আর জমিনে। ডিজাইনের মাধ্যম হিসেবে এসেছে স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাপ্লিক, মেশিন এমব্রয়ডারি, টাইডাই ও হাতের কাজ। এখানেও শাড়িতে একসঙ্গে একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছে। স্ক্রিন প্রিন্টের সঙ্গে মেশিন এমব্রয়ডারি আর অ্যাপ্লিকের একসঙ্গে ব্যবহার নতুনত্ব এনেছে। শাড়িতে উৎসবের জমকালো লুক এনেছে জরি, পুঁতি ও চুমকি ও কারচুপির ব্যবহার। নতুনত্ব এসেছে জামদানিতেও। হাফসিল্কে জামদানিতে বসানো হয়েছে জমকালো পাথর বসানো পাড়। চিকন সুতার বুননে নানা নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জামাদানি শাড়ির জমিনে। আঁচলের বাহারি টারসেলের ব্যবহার শাড়িতে নতুন লুক যোগ করেছে। গরমের কারণে এবার হালকা রংগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

amitumi_eid fashion trend2

কামিজে কটি

সালোয়ার-কামিজে এবারের ঈদের বিশেষ আকর্ষণ কটির ব্যবহার। কখনো কটি কামিজের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু কটি আবার আলাদা, চাইলেই খুলে ফেলা যাবে। ছোট-বড় নানা আকৃতির কটি ব্যবহার করা হয়েছে কামিজে। আবার চাইলে শুধু কটিও পাবেন। কামিজের সঙ্গে ইচ্ছামতো মিলিয়ে পরা যাবে। কামিজ অবশ্যই লং। সামনের ডিজাইন ও নকশায় নতুনত্ব থাকছে। গলার নকশা নেমে গেছে খানিকটা নিচে। স্ট্রেইট কাট কামিজের সঙ্গে ফ্রক কাট কামিজও আছে। গলার সঙ্গে মিলিয়ে কামিজের নিচের অংশেও নকশা করা হয়েছে। কামিজে পেছনের অংশের কাজও নজর কাড়ে। লা-রিভের ডিজাইনার ঊমি রহমান জানান, ‘ সালোয়ার-কামিজে জ্যামিতিক নকশাও থাকছে। লেইস, কারচুপি, সিকোয়েন্স ও জারদৌসির কাজ কামিজে জমকালো লুক দেয়া হয়েছে। ফুলেল মোটিফ ও হাতের কাজকে প্রাধান্য দিয়েছি। রঙিন সব রং ব্যবহার করা হয়েছে।’ অন্যান্য ফ্যাশন হাউসেও এবারের সালোয়ার-কামিজে প্রকৃতির নানা উপকরন ও রং ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা চোখে পড়ে। শুধু কামিজ নয়, ওড়নার ডিজাইনেও পাওয়া যায় যত্নের ছাপ। স্ক্রিন প্রিন্টের সঙ্গে এমব্রয়ডারি বা হাতের কাজ থাকছে ওড়নায়। সালোয়ারের কাটে ডিভাইডার বা পালাজ্জোর সঙ্গে সাধারণ কাটের সালোয়ারও আছে। তবে সালোয়ার কামিজের সঙ্গে চুড়িদারই চোখে পড়ে বেশি।

amitumi_eid fashion trend3

পাঞ্জাবিতে দেশি কাপড়

অন্যান্যবারের মতো বিদেশি কাপড় নয়, এবার দেশি কাপড়ে পাঞ্জাবির ট্রেন্ড বলে জানালেন ফ্যাশন হাউস লুবনান, রিচম্যান ও ইনফিনিটির পরিচালক মনিরুল হক খান। তিনি বলেন, ‘আগে দেখা যেত ঈদের পাঞ্জাবিতে বেশির ভাগই ভারতীয় কাপড় ব্যবহার করা হতো। এবার পাঞ্জাবিতে আমরা প্রাধান্য দিয়েছি বিভিন্ন ধরনের দেশি সুতি কাপড়ে। এসবের মধ্যে আছে নরসিংদীর বাবুপাড়ার বিখ্যাত তাঁত কটন ও রাজশাহীর সিল্ক। নরমাল ফেব্রিকের ওপর ব্লক ও স্কিন প্রিন্টও বেশ চলছে।’

পাঞ্জাবির গলা, কলার, হাতা বা বুকের সামনে আছে নানা ধরনের নকশা। বেশির ভাগ পাঞ্জাবিতেই মেশিন এমব্র্রয়ডারির সঙ্গে আছে হাতের কারচুপির কাজ। অ্যাপ্লিকের ওপর কারচুপির কাজও নজরে পড়েছে। বেশ কয়েক বছর আগেও পাঞ্জাবির হাতায় একটু ভারি কাজ ছিল। কিন্তু গেল কয়েক বছর সে ধারা দেখা যায়নি। এবারের ঈদ ফ্যাশনে পুরনো সেই ধারা আবার ফিরে এসেছে বলে জানালেন ফ্যাশন হাউস দর্জিবাড়ির বসুন্ধরা সিটি শাখার ম্যানেজার গোপাল চন্দ্র পাল। রঙের মধ্যে সবুজ, মেরুন, পার্পল, জলপাই, আকাশি নীল, অফহোয়াইট, পেস্ট ইত্যাদি বেশি দেখা গেছে। আর একরঙা স্লিম ফিট পাঞ্জাবিগুলোতে কলার, বুকপকেট ও হাতার কাছায় জুড়ে দেওয়া হয়েছে ভিন্ন রঙের কাপড়। কোনো কোনো পাঞ্জাবিতে দেখা গেল কাঁধের ওপরে ছোট্ট ফিতা বোতাম দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। আর কাঁধের নিচে বুকের সামান্য ওপরে দুটি ভিন্ন রঙের কাপড় জুড়ে দিয়ে নকশায় আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। লম্বা ঝুলের পাঞ্জাবিতে কলার ও বুকের দিকে থাকছে পুঁতি বা সুতার কাজ। আছে শেরওয়ানি, পাঠানি ও জমিদারি কাটের জমকালো পাঞ্জাবি। এসব পাঞ্জাবিতে গলার সঙ্গে মিলিয়ে হাতার নিচে কাজ করা। কোনোটির বোতাম লাগানো হয়েছে কাঁধের পাশ কেটে। প্রায় সব ধরনের পাঞ্জাবির সঙ্গেই কটির সরব উপস্থিতি আছে। এবার মোদি কটি নিয়ে তরুণদের বেশ আগ্রহ বলে জানালেন বিক্রেতারা।

ফ্রক, টপস ও স্কার্টের রাজত্ব

বাচ্চাদের জন্য সুতি কাপড়ের পোশাকই বেশি। পাশাপাশি জর্জেট ও নেটের ব্যবহারও দেখা গেছে। অনেক ফ্যাশন হাউসে বড়দের সঙ্গে মিলিয়ে ছোটদের পোশাক বানানো হয়েছে। ঈদে বাচ্চাদের পোশাকের ট্রেন্ড নিয়ে ক্যাটস আইয়ের পরিচালক ও ডিজাইন বিভাগের শীর্ষ নির্বাহী সাদিক কুদ্দুস বলেন, ‘শিশুদের পোশাকের মোটিফ বর্ণমালা কিংবা মজার সব ছবির ব্লকপ্রিন্টও আছে। তবে সুপার হিরো সিরিজের নানা কমিক ক্ল্যাসিক্যাল চরিত্রগুলোও আছে ছোটদের পোশাকের ক্যানভাসে। বৈচিত্র্যময় রঙের ব্যবহার তো আছেই।’

amitumi_eid fashion trend4

মেয়েদের জন্য ফ্রক, টপস, স্কার্টের পাশাপাশি শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাচ্ছে। মেয়ে-শিশুদের পোশাকে নকশা ও কাটিংয়ে রয়েছে বিশেষ ভিন্নতা। অ্যালাইন কাট, হাতাকাটা পোশাক ছাড়াও ঘটি হাতার ফ্রক ও টপসের কালেকশন বেড়েছে। আছে জনপ্রিয় কার্টুনের চরিত্র দিয়ে করা টি-শার্টও।

ছেলে-বাচ্চাদের সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবিই বেশি চোখে পড়েছে। সুতি কাপড় ছাড়া কারুকাজ করা সিল্কের পাঞ্জাবিও দেখা যাচ্ছে। ক্যাটস আইয়ের যমুনা ফিউচার পার্ক শাখার ইনচার্জ মো. সাইফুদ্দিন জানালেন, ‘বাবা-ছেলে কিনতে পারবেন একই রকম পাঞ্জাবি। বড়দের মতো ছোটদের পাঞ্জাবিতেও চলছে লম্বা ঝুল। দুই পাশে পকেট তো আছেই, অনেক পাঞ্জাবির সামনের দিকেও জুড়ে দেওয়া হয়েছে পকেট।’ এমব্রয়ডারি, প্রিন্ট বা বাটিকের কাজের পাঞ্জাবি দেখা যাচ্ছে শিশুদের জন্য। পাঞ্জাবির সঙ্গে আছে চুড়িদার পায়জামা, আলিগড়ি, কাবলি পায়জামাসহ নানা ধরনের প্যান্ট। বড়দের মতো এসব পাঞ্জাবির কলার ও হাতায় মেশিন এমব্রয়ডারির কাজ থাকছে। এ ছাড়া জিনস, টি-শার্ট, ফতুয়া তো আছেই।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail