মোবাইল ফোনকলের নতুন প্রতারণা, ফাঁদে পা দিলে যা হবে

amitumi_mobile fraud

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে ফোনকলের মাধ্যমে প্রতারণা। গ্রামীণ, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেলসহ বিভিন্ন কোম্পানির সিম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়তই। প্রতারণার এই অভিনব পদ্ধতি অনেক আগে থেকে শুরু হলেও ঈদকে কেন্দ্র করে অভিনব এই প্রতারণা চরমভাবে বেড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্য, দেশের প্রশাসন এ ব্যাপারে অবগত থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, প্রতারক চক্রটি যেকোন কোম্পানির সিম থেকে নাম-ঠিকানা না জানা ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে থাকে। চক্রটি যাদেরকে ফোন দেয় প্রথমে বোঝার চেষ্টা করে তারা কোন শ্রেণির মানুষ। বোঝার পরেই তাদের উপর অপকৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করে তারা। অভিযোগ রয়েছে, ফোন রিসিভ করা ব্যক্তি সমাজের আইকোনিক মেম্বার হলে তাকে কোম্পানি থেকে লটারিতে ২৫ লাখ পেয়েছেন বলে জানিয়ে দেয় চক্রটি। আর এই টাকা পেতে হলে যে নম্বর দিয়ে ফোন দেয়া হয়েছে সেই নম্বরে লটারিতে পাওয়া টাকার ১ শতাংশ বিকাশ করে পাঠিয়ে দিতে বলে তারা। প্রতারক চক্রটি অধিকাংশ যেসব সিম কোম্পানির নাম ব্যবহার করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, রবি, বাংলালিংক ও গ্রামীণ। চক্রটি প্রতারণার এই অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা এস, এম তৌফিক(৫৫)। একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির এমডি। তিনি জানান, ০১৭৬৬১১১১১৯ নম্বর থেকে আমার নম্বরে কল আসে। আমাকে বলা হয়, স্যার আপনি গ্রামীণ সিম কোম্পানি থেকে লটারিতে ১৮ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। এই টাকা পেতে হলে ১৮ লক্ষ টাকার ১ শতাংশ টাকা বিকাশ করে পাঠাতে হবে। এরপর তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে আপনি কোথা থেকে বলছেন ও আপনি কী করেন? তখন আমি বুদ্ধি খাটিয়ে বলি আমি পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে বলছি। প্রতারক চক্রটি আমার পরিচয় পেয়ে ভয় পেয়ে যায়। তখন প্রতারক চক্রটি আমাকে বলে স্যার আপনার সাথে একটু পরে যোগাযোগ করছি। পরবর্তীতে আমি উল্লেখিত নম্বরে ফোন দিলে নম্বরটি বন্ধ পাই।

ভুক্তভোগী সনিয়া রহমান(৩২)। তিনি জানান, কিছু দিন আগে একটি বাংলালিংক নম্বর থেকে আমার নম্বরে কল আসে। আমাকে বলা হয় ম্যাডাম আপনি বাংলালিংক সিম কোম্পানি থেকে ২০ লাখ টাকা লটারিতে পেয়েছেন। এরপর আমাকে জিজ্ঞেস করে আপনি কি করেন ও কোথা থেকে বলছেন? বলি আমি গৃহিনী, থাকি রংপুরের ধাপ এলাকায়। তারপর প্রতারক চক্রটি বলে ম্যাডাম আপনি যদি টাকাটা পেতে চান তবে এখনোই ২০ হাজার টাকা যে নম্বর দিয়ে আমরা কল করেছি সেই নম্বরে বিকাশ করে পাঠিয়ে দিন। শুধু তাই নয়, তারা আমাকে এটাও বলে আপনি যে টাকাটা পেয়েছেন তা কাউকে বলার দরকার নেই। তাদের কথা মতো আমি কাউকে না বলেই ওই নাম্বারে ২০ হাজার টাকা বিকাশ করে পাঠাই। এরপর ওই নম্বর থেকে আর কোনো ফোন আসে না। তখন আমি ওই নম্বরে কল করি। কল করার পর তারা আমাকে বলে ম্যাডাম আপনাকে আরো ২০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। তারপর আবার আমি কাউকে না বলেই ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেই। মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠানোর পর তাদের সঙ্গে আমি আর যোগাযোগ করতে পারি না। কারণ ওই টাকা পেয়ে তারা সিমটি বন্ধ করে দিয়েছে। সমাজে এরকম অসংখ্য আমার মতো ভুক্তভোগী রয়েছেন যারা প্রতারক চক্রটির প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন বলে জানান সোনিয়া রহমান।

এ ব্যাপারে রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান এই প্রতিবেদককে জানান, কলের মাধ্যমে প্রতারণা অনেক দিন থেকেই হচ্ছে। মাঝখানে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছিলাম প্রতারক চক্রটিকে ধরার জন্য। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হয়েছি। তার কারণ যে সিমগুলো প্রতারক চক্রটি ব্যবহার করে সেগুলো একবারই ব্যবহার হয়। তাছাড়া এই সিমগুলো রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিম। যার ফলে তাদেরকে ধরা অনেক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই প্রতারণার ফাঁদ থেকে সাধারণ জনগণকে রক্ষা করতে হলে সিম কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। একটি সিমও যাতে করে রেজিস্ট্র্রেশন ছাড়া বিক্রি না করা হয় সে দিকটি মোবাইল কোম্পানিগুলোকে দেখতে হবে। তবেই চক্রটির প্রতারণার ফাঁদ অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: আমাদের সময়

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail