অবশেষে সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যম ও অ্যাপস্‌ খুলে দেয়া হলো

amitumi_all social network open

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২৬ দিন বন্ধ রাখার পর বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগের ‘সব মাধ্যম ও অ্যাপ’ খুলে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকাল ৫টার পর টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, “সরকারের নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যম বাংলাদেশে খুলে দেওয়া হচ্ছে।”

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শাজাহান মাহমুদ বলেন, “অপারেটরদের নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, কিছুক্ষণের মধ্যে সব খুলে যাবে।”

এরপর সাড়ে ৫টার দিক থেকে টুইটার, স্কাইপ, ইমোসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় সাইট ও মোবাইল অ্যাপ বাংলা‍দেশে খুলতে শুরু করে। রোববার রাতেই এসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ করতে মোবাইল ফোন অপারেটর এবং ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে বন্ধ থাকার সময়ে তরুণ প্রজন্ম ‘যে ত্যাগ স্বীকার’ করেছে, সেজন্য তাদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন তারানা।

দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনার পর জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করতে গত ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশে ফেইসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

একই সময়ে বন্ধ করা হয় মোবাইল ফোনের অ্যাপ ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ। আর বিটিআরসির নির্দেশে এ কাজটি করতে গিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রায় দেড় ঘণ্টা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে বাংলাদেশ।

‘বৃহত্তর স্বার্থে’ এই কষ্ট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সেদিন বলেছিলেন, “দেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থেই এগুলো বন্ধ করা হয়েছে।”

২২ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেইসবুক খুলে দেওয়া হয়।

সেদিন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তারানা বলেছিলেন, “আমরা ফেইসবুক খুলে দেওয়ার জন্য সরকারি নির্দেশনা পেয়েছি। জননিরাপত্তার স্বর্থে ফেইসবুক বন্ধ রাখা হয়েছিল। আমার মনে হয় আপাতত সেই সমস্যা কেটে গেছে। সেজন্য ফেইসবুক খুলে দিতে সরকারের নির্দেশনা এসেছে।”

কিন্তু এর তিন দিনের মাথায় রোববার রাতে টুইটার, স্কাইপ ও ইমো বন্ধ করে দেওয়া হয় বাংলাদেশে।

এর ব্যাখ্যায় বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, “এটি নতুন কিছু নয়। আজকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা আগের নির্দেশনার ধারাবাহিকতা।”

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, টুইটার বন্ধের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা ছিল না।

“আমরা ফেইসবুক, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ, ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার বন্ধ করতে বলেছিলাম, টুইটার না।”

সরকারের এসব সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তরুণদের অনেকেই। ফেইসবুকসহ বন্ধ থাকা সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যম দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশও হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এই সময়ে বিকল্প পথে অনেকেই ফেইসবুক ব্যবহার করেছেন।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail