শিশুদের যে ৫ টি গুণ কখনোই হারিয়ে যেতে দেবেন না

amitumi_creative child

ডা. কার্লি এম সি ব্রীড একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি কলোরাডোর ডেনভারে বিবাহ এবং পরিবার থেরাপিস্ট হিসেবে ২৮ বছর ধরে কর্মরত আছেন। ন্যাশনাল জুনিয়র অনার সোসাইটি এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে তিনি তার একটি গবেষণা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি শিশুদের বিভিন্ন ছোট ছোট গুণের কথা বলেন। তার মধ্যে বিশেষভাবে তুলে ধরেন ৫ টি গুণ যা তার মতে কোনভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিৎ নয়। বরং সেগুলোকে আরও উৎসাহিত করা উচিৎ।
এই পাঁচটি গুণ হল, পান্ডিত্য, কর্তব্যপালন, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম এবং চরিত্র। আসুন বিস্তারিত জেনে নিই।

পান্ডিত্য

পান্ডিত্য বলতে বোঝানো হয় একটা শিশুর জ্ঞানের আকাঙ্ক্ষা। যেসব শিশুদের জানার আগ্রহ রয়েছে, বিশেষ কোন বিষয়ে তারা যদি শিখতে আগ্রহী হয় অবশ্যই বাবা মায়ের উচিৎ শিশুর আগ্রহকে গুরুত্ব দেয়া। সেই শিক্ষা যে প্রাতিষ্ঠানিকই হতে হবে এমন কোন কথা নেই। অথবা শিক্ষা মানেই যে তা শিশুর বাৎসরিক ফলাফল অনেক ভাল করে দেবে এমন নাও হতে পারে। কিন্তু যে বিষয়ে সে জানতে চায় তাকে অবশ্যই সে বিষয়ে জানতে দেওয়া উচিৎ। শেখার আগ্রহকে কখনোই থামিয়ে দেয়া ঠিক নয়।

কর্তব্যপালন

কর্তব্যপালন বলতে ডা. কার্লি বলতে চেয়েছেন, শিশুর সেচ্ছায় কাজ করার প্রবণতার কথা। শিশু হয়তো নিজের কাজ নিজে করতে আগ্রহী। অথবা উৎসাহী হয়ে আপনার কাজও করে দিচ্ছে। কখনোই তাদের ‘এটা তোমার কাজ নয় বা এখন তোমার পড়ার সময়’ ইত্যাদি বলে তাকে অনুৎসাহিত করা ঠিক নয়। বরং এভাবেই সে নিজের কর্তব্যগুলো ধীরে ধীরে বুঝতে পারবে, দায়িত্বশীল হয়ে বেড়ে উঠবে।

নেতৃত্ব

অনেক শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্বদানের গুণ দেখা যায়। সে হয়ত ক্লাসে সহপাঠীদের বুঝিয়ে শান্ত রাখতে পারে সহজেই। বিদ্যালয়ের খেলাধূলা বা যে কোন অনুষ্ঠানে সে হয় দলের প্রধাণ। এটি একটি অসাধারণ গুণ। পড়াশোনার ক্ষতি হবে ভেবে কখনোই শিশুদের এই গুণকে অবদমন করা উচিৎ নয়। নেতৃত্বের এই গুণ পরবর্তীতে তাকে অনেক সহযোগিতা করবে জীবনকে গুছিয়ে নিতে। বাড়বে আত্মবিশ্বাস। ছাত্র জীবনে তো বটেই ক্যারিয়ারেও এর সুফল পাবে সে।

দেশপ্রেম

একজন সুনাগরিকের দেশের প্রতি কিছু দায়িত্ব থাকে। দেশের আইন মেনে চলা, অন্যের ক্ষতি না করা, দেশের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অপব্যায় না করা এসবই একজন নাগরিকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আপনার শিশুর মধ্যে যদি এই গুণগুলো দেখতে পান অবশ্যই তাকে উৎসাহিত করুন। আরও বিশদভাবে তাকে সচেতন করে তুলুন দেশের সম্পদ এবং নিয়ম-কানুন সম্পর্কে।

চরিত্র

ডা. কার্লি বলেন, ‘চরিত্র জন্মগত নয়, বরং একে অর্জন করতে হয়।’ শিশুদের সৎ গুণগুলোর চর্চার মাধ্যমে গড়ে ঊঠতে পারে তাদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব। কোন পছন্দগুলো ভাল, কীভাবে কখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়া, মিথ্যা না বলা এইসব তাকে ধীরে ধীরে শেখাতে হবে। শিশুরা সুন্দর। এর অনেক গুণই হয়তো তার সহজাত। সেগুলোকে আরও উৎসাহিত করে বড় পরিসরে তাকে একজন ভাল চরিত্রের অধিকারী করে গড়ে তুলতে সহযোগী হতে হবে বাবা-মাকেই।

ডা. কার্লি তার গবেষণায় বারবার জোড় দিয়েছেন শিশুদের স্বতস্ফূর্ততার উপর। শিশুকে বেড়ে উঠতে দিতে হবে তার নিজের মত। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ তার গুণগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে। তার মেধাকে ধ্বংস করতে পারে। অথচ গুণগুলোতে উৎসাহ পেলে সে হয়ে উঠতে পারে সুন্দর কতোজন মানুষ, সাথে বুদ্ধির বিকাশ এবং চারিত্রিক গঠনও হতে পারে আরও দৃঢ়।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail