ভিন্ন রকম বৈশাখী রান্না ১

amitumi_boishakhi ranna 1

বাংলা নববর্ষে খাবার টেবিলে ভিন্ন আয়োজন হিসেবে রাখতে পারেন চ্যাপা পিঠা এবং প্রেশার কুকারে আস্ত ইলিশ রান্না।
রেসিপিগুলো দিয়েছেন বীথি জগলুল।

প্রেশার কুকারে আস্ত ইলিশ

উপকরণ:
ইলিশ মাছ ১টি। হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ। মরিচগুঁড়া ২ চা-চামচ। জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ। পেঁয়াজকুচি ১ কাপ। কাঁচামরিচ ৮,১০টি। তেল ১/৪ কাপ। লবণ স্বাদ মতো।

পদ্ধতি:
ইলিশ মাছ আস্ত অবস্থায় ভেতরে-বাইরে পরিষ্কার করে নিন। মাছের সঙ্গে সব উপকরণ মাখিয়ে সারারাত অথবা কমপক্ষে দুই ঘণ্টা মেরিনেইশনের জন্যে সাধারণ তাপমাত্রার ফ্রিজে ঢেকে রেখে দিন।

এবার প্রেশার কুকারে মাছ বসিয়ে এমনভাবে পানি দিন যেন মাছ ডুবে থাকে। চুলায় পুরো আঁচে আধা ঘণ্টা রান্না করে, পরের আধা ঘণ্টা একদম মৃদু আঁচে রান্না করুন।

এক ঘণ্টা পর খুব সাবধানে মাছ বের করে একটি ওভেন প্রুফ সার্ভিং ডিশে অথবা ওভেনের ট্রেতে রাখুন।

আস্ত মাছটি যদি প্রেশার কুকারে না ধরে, তাহলে মাঝ বরাবর দুইভাগ করে নিতে পারেন।

মাছ তুলে ঝোল কিছুটা ঘন করে মাছের উপর দিয়ে ঢেলে দিন।

এবার ২০০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় ওভেন প্রি-হিট করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বেইক করে নিন।

এভাবে রান্না করলে মাছের কাঁটা একদম নরম হয়ে যাবে। খাওয়ার সময় আর কাঁটা বাছতে হবে না।

পোলাও অথবা সাদা ভাত দিয়ে পরিবেশন করুন।

* প্রেশার কুকারে যে কোনো মাছই এভাবে রান্না করতে পারেন। বিশেষ করে যারা মাছের কাঁটা বাছার ভয়ে মাছ খেতে চান না, তারা তো অবশ্যই এভাবে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

* ইলিশের ওজন ৫০০ গ্রামের মতো হলে সেটাকে জাটকা বলা হয়, যা ধরা এবং খাওয়া আইনত নিষিদ্ধ। তাই বড় ও বেশি ওজনের ইলিশ সংগ্রহ করুন।

চ্যাপা পিঠা

এই পিঠা ময়মনসিংহের গফরগাঁও অঞ্চলের খুব জনপ্রিয়

ভর্তার জন্য:
চ্যাপা শুটকি ৭,৮টি। পেঁয়াজ (মোটা করে কুচি) ১ কাপ। রসুন (মোটা করে কুচি) ১ কাপ। কাঁচামরিচ ৮,১০টি। লবণ স্বাদ মতো।

পদ্ধতি:
শুটকি পানিতে ভিজিয়ে রেখে মাথা ফেলে পরিষ্কার করে ধুয়ে রাখুন। প্যানে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ খুব অল্প আঁচে সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। নন-স্টিক প্যান হলে ভালো।

ভাজা হলে, শুটকি দিয়ে আবার ভাজুন। লবণ মিশিয়ে নামিয়ে ফেলুন। ঠাণ্ডা করে হাত দিয়ে মেখে নিন অথবা শিল-পাটায় বেটে নিতেও পারেন।

ডো’য়ের জন্যে:
চালের গুঁড়া ২ কাপ। লবণ স্বাদ মতো। পানি পরিমাণ মতো।

পদ্ধতি:
লবণ ও পানি ফুটিয়ে নিন। চালের রুটির খামির বা ডো যেভাবে করে সেইভাবে ডো করে নিন। ঠাণ্ডা হলে ময়ান দিয়ে রাখুন।

পিঠা তৈরি:
ডো’টি ছোটো ছোটো বলের আকারে তৈরি করুন।

হাতের তালুতে নিয়ে, রুটি বানিয়ে একটি রুটির উপর ভর্তার পুর দিয়ে অন্য একটি রুটি দিয়ে চেপে দিন।

দুই আঙুলের চাপে চারদিক মুড়ে দিন। সব বানানো হলে, তাওয়া গরম করে মৃদু আঁচে দুইপাশ সেঁকে নিন।

হালকা বাদামি হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন। এই পিঠা গরম অথবা ঠাণ্ডা দুভাবেই খেতে অসাধারণ।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail