ভূমিকম্পের পূর্বাভাস ৭২ ঘণ্টা আগেই

amitumi_earthquake forecast

ভূমিকম্পের আশঙ্কায় দুই দিন আগেই জাপানের প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলে, সেখানে দুটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। কিন্তু কিভাবে তারা এ পূর্বাভাস দিলেন? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘আয়নোস্ফেরিক সায়েন্স’ হলো সেই বিজ্ঞান, যা প্রায় নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারে, কোন অঞ্চলে ভূকম্পন হতে চলেছে। আর এটা বলা সম্ভব কম্পনের অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগেই।

কিভাবে এ আভাস মেলে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে একটা বিশেষ অস্বাভাবিকতা থেকে বোঝা যায়, ভূমিকম্প হতে যাচ্ছে। সেই অস্বাভাবিকতা হলো—আয়নোস্ফিয়ারের সবচেয়ে নিচের স্তরে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। উপযুক্ত পরিকাঠামো ব্যবহার করলে এটাও বোঝা সম্ভব, পৃথিবীর ঠিক কোন অঞ্চল কাঁপতে যাচ্ছে।

আয়নোস্ফেরিক সায়েন্সের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলের আয়ন স্তরে যেসব গ্যাস আছে, সেগুলো আয়নীয় অবস্থায় থাকে, কারণ প্রচণ্ড তাপের কারণে অণুগুলো থেকে ইলেকট্রন ছিটকে বেরিয়ে যায়। সূর্যরশ্মিতে যে অতিবেগুনি রশ্মি ও অবলোহিত রশ্মি থাকে, তা আয়নোস্ফিয়ারের তাপ অনেক বাড়িয়ে দেয়। এর জেরেই গ্যাসের অণু থেকে ইলেকট্রন ছিটকে বেরিয়ে প্রচুর আয়ন তৈরি করে। পাশাপাশি প্রচুর ইলেকট্রন সেখানে মুক্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীর যে অংশে তখন দিন, সেই অংশের ওপরের আয়নোস্ফিয়ারে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা বেশি হয়। যে অংশে রাত, সেখানে এ সংখ্যা কম হয়।

শুধু তাই নয়, আয়নোস্ফিয়ারের ওপরের অংশ বেশি উত্তপ্ত হওয়ায় সেখানে মুক্ত ইলেকট্রন যে সংখ্যায় থাকে, নিচের দিকের স্তরে এর চেয়ে অনেক কম থাকে। আয়নোস্ফেরিক সায়েন্স বায়ুমণ্ডলের এ নিচের স্তর বা ডি রিজিয়নের ইলেকট্রন সংখ্যা দেখেই বলে দিতে পারে, ভূকম্পের আশঙ্কা রয়েছে কি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতেও আয়নোস্ফিয়ারের ডি রিজিয়নে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি থাকলে বুঝতে হবে সূর্যরশ্মির কারণে নয়, ভূগর্ভ থেকে নির্গত র‌্যাডন গ্যাসের কারণে সেটা হয়েছে। এ র‌্যাডন গ্যাস ভূগর্ভের বিভিন্ন খাঁজে জমে থাকে। টেকটনিক প্লেট নড়াচড়া করলে ওই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। এরপর তা সোজা গিয়ে আটকায় আয়নোস্ফিয়ারের ডি রিজিয়নে। সেই গ্যাসের অণু থেকেও ইলেকট্রন মুক্ত হতে থাকে এবং ডি রিজিয়নে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। আয়নোস্ফিয়ারের যে অংশে এ অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, সেই অংশে কোন কোন অঞ্চল রয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন বিজ্ঞানীরা। কারণ বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, সেই অঞ্চলের আশপাশের টেকটনিক প্লেটেই নড়াচড়া হচ্ছে। আর এটা জানা যায় কম্পনের ৭২ ঘণ্টা আগেই।

নেপালে গত বছর যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হলো, এর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল ইন্ডিয়ান সেন্টার অব স্পেস ফিজিকস (আইসিএসপি)। জাপানে দিনকয়েক আগে যে ভূমিকম্প হয়েছে, এর পূর্বাভাসও পাওয়া গিয়েছিল কম্পনের ৭২ ঘণ্টা আগেই।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail