মেনোপজ নিয়ে নারীর সকল ভ্রান্ত ধারণা দূর করে দেবে এই যুগান্তকারী গবেষণা

rupcare_menopause no tension

মেনোপজ হলো নারীদের মাসিক ঋতুচক্রের শেষ সীমা। সব নারীর জীবনেই এটি ঘটে। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের মেনোপজ হয়। রাতে ঘেমে-নেয়ে শরীর দুর্বল হওয়া থেকে শুরু করে গরম ফ্লাশ-মুখমণ্ডল ও দেহের ত্বক গরম ও রক্তিম হয়ে ওঠা, প্রভৃতি মেনোপজের লক্ষণ। তবে সম্প্রতি পিটসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মেনোপজের লক্ষণগুলোর চারটি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে। লক্ষণগুলো নৃগোষ্ঠী, ওজন ও জীবনযাত্রার ধরনভেদে সব নারীর জন্যই প্রযোজ্য। নতুন এই গবেষণার ফলাফল মেনোপজ সম্পর্কিত আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও আমূল বদলে দিতে পারে।

এই গবেষণার ফলে মেনোপজ সম্পর্কিত গুজব এবং এর লক্ষণ সম্পর্কিত ভুল ধারণাগুলোরও খণ্ডন হয়েছে :

এইচআরটি নিরাপদ নয়
মেনোপজের হরমোনগত চিকিৎসাপদ্ধতির নাম এইচআরটি। হরমোন রিপ্লেসমেন্টের মাধ্যমে এই চিকিৎসা করা হয়। এর আগে ধারণা ছিল এইচআরটি নিরাপদ নয়। এর কারণে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
কিন্তু নতুন গবেষণায় জানা গেছে, যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায় তাহলে সব নারীর জন্যই এইচআরটি উপযুক্ত।
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এইচআরটি পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেয়নি এমন ৫০ বছর বয়সী ১ হাজার নারীর ২২ জনই মাত্র ৭ বছরের মধ্যেই স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।

মেনোপজ সব সময়ই ৫০ এর পরে হয়
সাধারণত গড়ে ৫১ বছর বয়সে নারীদের মেনোপজ শুরু হয়। তবে বেশির ভাগ নারীরই ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যেই মেনোপজ শুরু হয়। কিন্তু ড. সেচেল বলেন, ৪০ এর পরে যেকোনো সময়ই অকাল মেনোপজ শুরু হতে পারে। এমনকি অকালে জরায়ু অচল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ৪০ এর আগে যেকোনো বয়সে ঘটতে পারে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- অল্প বয়সে মেনেপজে আক্রান্ত হওয়া নারীদেরকে অবশ্যই চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে। কারণ মেনোপজের ফলে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে তা অস্টিওপরোসিস এর মতো জটিল রোগেরও সৃষ্টি করতে পারে।

মেনোপজে আক্রান্ত নারীদের গরম ফ্লাশ হয়
মেনোপজের একটি সাধারণ লক্ষণ- মুখমণ্ডলসহ পুরো শরীরের ত্বক গরম ও রক্তিম হয়ে ওঠা। এ ছাড়া রাতের বেলা ঘেমে-নেয়ে দুর্বল শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া। তবে মেনোপজে আক্রান্ত সব নারীরই এই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না।
অনেক নারী মেনোপজ সমস্যাটি খুব সহজেই পাড়ি দেন। মেজাজ-মর্জির পরিবর্তন থেকে শুরু করে শরীরের জোড়াগুলোতে ব্যথা অনুভূত হওয়াও মেনোপজের লক্ষণগুলোর অন্তর্ভুক্ত। সব নারীই মেনোপজের লক্ষণ হিসেবে কথিত গরম ফ্লাশের অভিজ্ঞতা লাভ করেন না।

হরমোনের ঘাটতির কারণে যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে আসে
এই গুজবটি আংশিক সত্য। মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতির কারণে নারীদের যৌনাকাঙ্ক্ষা কিছুটা কমে আসে। এ ছাড়া মেনোপজের পর জননাঙ্গে পিচ্ছিল পদার্থের ঘাটতির কারণেও নারীদের যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে আসতে পারে। কারণ জননাঙ্গে পিচ্ছিল পদার্থের ঘাটতির ফলে যৌনমিলন বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে আসে।

লক্ষণগুলো সবই দৈহিক
দৈহিক লক্ষণ ছাড়াও মানসিক কিছু লক্ষণেও মেনোপজের আভাস পাওয়া যায়। যেমন, মেজাজ খিটমিটে হওয়া, অবসাদ ও উদ্বেগ এবং এমনকি মস্তিষ্কে ঘোলাটে বা কুয়াশার মতো অনুভুতি হওয়া- ঠিকভাবে চিন্তা করতে বা সঠিক শব্দ চয়ন করতে না পারা।

ঋতুস্রাব হালকা হয়ে আসা
সবার বেলায়ই যে এমনটা ঘটে তা ঠিক নয়। অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটা দেখা যায় যে, পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে তাদের ঋতুস্রাব হালকা হয়ে আসে।
কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই মেনেপজের আগের সময়টুকু খুবই কঠিন ও বেদনাদায়ক হতে পারে। কারণ সে সময়টাতে তাদের ঋতুস্রাব অনেক ভারী এবং আরো যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে।

মেনোপজ মাত্র কয়েক বছর থাকে
আসলে ব্যক্তিভেদে এতে পার্থক্য দেখা যায়। অনেক নারীর ঋতুস্রাব হুট করেই বন্ধ হয়ে যায় এবং কোনো পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই তাদের মেনোপজ হয়। তবে অনেকে আবার ১০ বছর ধরে মেনোপজ পূর্ববর্তী লক্ষণগুলোর অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন।
তবে মেনোপজের গড় সময়সীমা চার বছর। কোনো নারীর যদি টানা ১২ মাস ধরে ঋতুস্রাব না হয় তাহলে বুঝতে হবে তার মেনোপজ পর্ব শেষ হয়েছে।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail